বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী, সমাজসেবক ও দানবীর জনাব লায়ন এস এম জাহাঙ্গীর আলম (মানিক) নোয়াখালী জেলার সেনবাগ উপজেলার সায়েস্তানগর গ্রামে ১৪ই জানুয়ারী ১৯৬৮ সালে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতা শহীদ তরিক উল্ল্যা বীর বিক্রম, মাতা- বিশিষ্ট সমাজসেবী বেগম আংকুরের নেছা, স্ত্রী বিশিষ্ট শিল্পপতি, নারী উদ্দ্যোক্তা ও সমাজসেবী বেগম শরিফা জাহান সুমি, ভাই বিশিষ্ট শিল্পপতি মোঃ ফিরোজ আলম খোকন ও কন্যা মেধাবী ছাত্রী নাফিছা আলম (সানজি)।
জাহাঙ্গীর আলম মানিক বীর বিক্রম শহীদ তরিক উল্ল্যা সাহেবের জ্যেষ্ঠ সন্তান হিসাবে শৈশব থেকেই জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর প্রিয় পিতার মহান স্বাধীনতার যুদ্ধে চরম আত্মত্যাগের মহাত্ম উদঘাটনে অত্যন্ত অনুসন্ধিৎসু মন নিয়ে বড় হয়ে উঠছিলেন। বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়ার পর তথা কৈশরে পদার্পন করার পর দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির লক্ষ্যে তাঁর বাবার শাহাদাৎ বরন করার বিষয়টি সম্যক উপলব্দি করতে সক্ষম হন। তাঁর শহীদ পিতার আদর্শ ধারণ করে দেশ সেবার আদর্শকে সামনে রেখে তিনি নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে লেখাপড়ায় ব্রতী হন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন সমাজসেবা ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে একাত্ম হয়ে বিভিন্ন জনহিতকর কর্মকান্ডে সম্পৃক্ত হন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর অধীনে চৌমুহনী সরকারী এস এ কলেজ থেকে কৃতিত্বের সাথে স্নাতক ডিগ্রী ও দারুল এহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল,বি (অনার্স) ডিগ্রী অর্জনের পর তিনি উপলব্দি করেন দেশের ও দশের কল্যাণে অংশ গ্রহন ও অবদান রাখতে হলে আর্থিক অবস্থা উন্নয়ন প্রয়োজন এবং তৎপ্রেক্ষিতে দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যবসা বাণিজ্যে সম্পৃক্ত হন।
লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক ছাত্র জীবন থেকেই বীর বিক্রম শহীদ তরিক উল্ল্যার সন্তান হিসাবে দেশের জন্য চরম আত্মত্যাগ স্বীকারকারী তার শহীদ পিতার আদর্শকে ধারণ করে দেশের কল্যাণে নিজেকে নিবেদিত রাখার জন্য অঙ্গীকারাবদ্ধ হন। বর্তমানে তিনি নিয়মিত তার এলাকায় বর্তমান সরকারের বহুমুখী উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পর্কে জনগণকে নিয়মিত অবহিত করা, এলাকার হত দরিদ্র মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী হিসাবে নিয়মিত পাশে দাঁড়ানো এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের নিকট পবিত্র ইসলামের সঠিক বাণী প্রচারের জন্য উদ্ভুদ্ধকরণ, শিক্ষা প্রসার, বিশেষ করে নারী শিক্ষার উন্নয়ন তথা নারীর ক্ষমতায়ন বাস্তবায়নে দিবা-রাত্র কাজ করে চলেছেন।
বিশিষ্ট শিল্পপতি লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক কৃতিত্বের সহিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জনের পর দেশের আপামর জনগণের কল্যানে নিবেদিত হয়ে দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা তথা দেশকে বিশ্বের অন্যতম দেশে রুপান্তর করার মানষে ১৯৯২ সালে টেক্সটাইল এন্ড ডাই ক্যামিকেল আমদানী ব্যবসা শুরু করেন। কারণ তিনি উপলব্দি করেন কেবল চাকুরী লব্দ অর্থ দিয়ে নিজের পরিবার প্রতিপালন ছাড়া দেশের হতদরিদ্র মানুষের কল্যাণে কোন অবদান রাখা স্বাভাবিকভাবে সম্ভব নয়। তাছাড়া একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমান হিসাবে তিনি বিশ্বাস করেন আল্লাহতায়ালা ব্যবসাকে হালাল রুজির পন্থা হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। দিবা-রাত্র অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে তাঁর দেশপ্রেম, জ্ঞান, বুদ্ধি, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও দুরদর্শিতার মাধ্যমে অচিরেই তিনি সফল ব্যবসায়ী হিসাবে বিপুল সুনাম অর্জন করেন এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা ও শিল্প প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের অন্যতম ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হিসাবে পরিচিতি লাভ করেন। তাঁর এই ব্যবসা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক বেকার যুবক ও যুব মহিলার কর্মসংস্থান, এলাকার স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। বর্তমানে তিনি সানজি গ্রুপ অব কোম্পানীর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সাথে তিনি দেশের অন্যতম বেসরকারী ব্যাংক “মেঘনা ব্যাংক লিমিটেড” এর স্পন্সর পরিচালক হিসাবে নিয়োজিত আছেন। তার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো সানজি স্টেইনেলস স্টিল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, সানজি অটোমোবাইলস লিমিটেড, সানজি সিএনজি লিমিটেড, সানজি প্রোপার্টি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড। সানজি গ্রুপের প্রধান কার্যালয় নিম্ম ঠিকানায় অবস্থিত- গ্রীন অরল্যান্ডো (৭ম তলা), ৪২/৪, প্রগতি স্মরনী, বারিধারা, ঢাকা। সফল ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি হিসাবে তিনি এফবিসিসিআই এর সদস্য, বাংলাদেশ স্টেইনলেস স্টিল পাইপ ম্যানুফেকচার এসোসিয়েশন এর সহ-সভাপতি, বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং ষ্টেশন ওনার এসোসিয়েশন এর অন্যতম সদস্য হিসাবে নিয়োজিত আছেন।
বিশিষ্ট শিল্পপতি লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও জনগণের জীবন, সংস্কৃতি সম্পর্কে এবং ব্যবসা বাণিজ্য সম্পর্কে ধারনা লাভের জন্য ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, দক্ষিন কোরিয়া, তাইওয়ান, সৌদি আরব, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইতালী, সুইজারল্যান্ড, জার্মানী, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, মিশর, অস্টেলিয়া, পূর্ব তিমুর, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশ সফর করেন। এছাড়া তিনি ২০০২ সালে সপরিবারে পবিত্র হজ্ব ব্রত পালন করেন।
শিল্পপতি লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক তাঁর পিতা বীর বিক্রম শহীদ তরিক উল্ল্যা সাহেবের স্বাধীনতা যুদ্ধে বিশেষ অবদান ও চরম আত্মত্যাগের আদর্শ অনুকরণে শৈশবকাল থেকেই দেশের হত দরিদ্র মানুষের কল্যানে অংশ গ্রহনের স্বপ্ন বুকে ধারণ করে বিভিন্ন সমাজ কল্যাণমূলক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহনে ব্রতী হন। এ ব্যাপারে তিনিও তাঁর শহীদ পিতার মত দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রয়োজনে জীবন বাজি রেখে দেশের মানুষের পাশে থেকে সেবা মূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন।
লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিকের বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কাজ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
(১) জমিদার হাট বিএন উচ্চ বিদ্যালয় ও শিবপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি, ঢাকাস্থ নোয়াখালী জেলা সমিতির আজীবন সদস্য এবং ঢাকাস্থ সেনবাগ উপজেলা কল্যান সমিতির আজীবন সদস্য ও উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
(২) জমিদারহাট স্কুলের উন্নয়ন, মার্কেট ভবন ও নিজ অর্থে নির্মান করেন।
(৩) এলাকার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে সেনবাগ উপজেলায় নিজ গ্রামে নিজস্ব অর্থায়নে একটি মসজিদ নির্মান করেন এবং সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব নিজে বহন করেন।
(৪) নিজস্ব জমিতে শহীদ তরিক উল্ল্যা বীর বিক্রম ফোরকানীয়া মাদ্রাসা স্থাপন করেন এবং ইহার সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনার দায়িত্ব থেকে সকল ধরনের আর্থিক সহায়তা করে থাকেন।
(৫) সেনবাগ উপজেলার এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ- ৫ প্রাপ্ত কৃত্বি শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও সংবর্ধনা দিয়ে থাকেন।
(৬) মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদানের জন্য তিনি শহীদ তরিক উল্ল্যা বৃত্তি ফান্ড থেকে বৃত্তি প্রদান করে থাকেন।
(৭) ২০০৪ সালে ঘটে যাওয়া প্রলংকারী বন্যা মোকাবেলায় জোট সরকার যখন ব্যর্থ এবং এলাকাবাসী যখন দিশেহারা, ঠিক সেই সময় নিজ এলাকার বন্যা দুর্গতদের সাহায্যার্থে নগদ টাকা, শাড়ী, লুঙ্গী এছাড়াও খাদ্য হিসাবে ২০ টন চাল বিতরণ করার মাধ্যমে তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়ান।
(৮) জেলা পুলিশ সুপারের অনুরোধে সেনবাগ থানা কমপ্লেক্সে দর্শনার্থীদের বসার জন্য একটি গোল ঘর নির্মানের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুরোধে উপজেলা প্রাঙ্গনে একটি মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্তম্ভ নির্মানের জন্য আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
(৯) ভাষা শহীদের স্মরণে তিনি শিবপুর হাই স্কুলে একটি শহীদ মিনার স্থাপন করেন।
(১০) এলাকার হতদরিদ্র ও গৃহহীন মানুষের আশ্রয়ের জন্য তিনি বেশ কিছু টিনের ঘর নির্মান করে বিতরন করেন।
(১১) প্রতি রমজান মাসে লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক গরীব দুঃখী জনগণকে খাদ্য, বস্ত্র ও আর্থিক সহায়তা করে থাকেন।
(১২) প্রতি বছর লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক সামাজিক, শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য বিপুল পরিমানে অর্থ সহায়তা দিয়ে থাকেন।
(১৩) ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা, ধর্মীয়, উন্নয়ন ও সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ডে সহায়তার লক্ষ্যে বীর বিক্রম শহীদ তরিক উল্ল্যা ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন।
(১৪) শহীদ তরিক উল্ল্যা বীর বিক্রম ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক মাহিলা কলেজের নির্মান কাজ শুরু করেন।
(১) সশস্ত্র বাহিনী কর্তৃক খেতাব প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বীর বিক্রম শহীদ তরিক উল্ল্যার সন্তান হিসাবে কর্তৃক বার বার সম্মানসূচক উপহার গ্রহন করেন।
(২) শেখ রাসেল ক্রিয়া চক্রের টেবিল টেনিস কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হওয়া উপলক্ষ্যে কর্তৃক সম্মানসূচক ট্রফি গ্রহণ করেন।
(৩) উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক সমাজ সেবক হিসাবে বার বার ক্রেষ্ট গ্রহন করেন।
(৪) বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সামাজিক সংঘের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথি হিসাবে ক্রেষ্ট গ্রহণ করেন।
(৫) বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় ও সামাজিক সংঘের প্রধান অতিথি হিসাবে মানপত্র ও ক্রেষ্ট গ্রহণ করেন।
বিশিষ্ট শিল্পিবিদ লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মানিক এলাকাবাসীর সর্বস্তরের মানুষের বিনা মূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রাপ্তির লক্ষ্যে এলাকায় একটি উন্নত মানের হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে এলাকা দরিদ্র জনসাধারন হাতের কাছেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা লাভ করেন। এ লক্ষ্যে সেনবাগ উপজেলার প্রাণ কেন্দ্রে জনসাধারণের সহজ যোগাযোগ সমৃদ্ধ স্থানে হাসপাতালের জন্য জায়গাও ক্রয় করেছেন। তাছাড়া এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষের দাবী ও প্রত্যাশা অনুযায়ী মেয়েদের নিরাপদ ও একান্ত পরিবেশে উচ্চ শিক্ষা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশ গ্রহণের নিমিত্ত ইতোমধ্যে লায়ন জাহাঙ্গীর আলম মাহিলা কলেজ নামে একটি কলেজ প্রতিষ্ঠার করা হয় ইতোমধ্যে, কলেজটি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ড এ এইচএসসি ফলাফলে শীর্ষ স্হানীয় কলেজ গুলোর মধ্যে অন্যতম।